পরিচয়
খুলনা জেলার বৃহত্তম পৌরসভা পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে ১৯৮৪ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। দুই ভাই, এক বোনের মাঝে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। স্ত্রী ডা. উম্মে হাবিবা শারমিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে বর্তমানে বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালে কর্মরত। এ চিকিৎসক দম্পতির তিন মেয়ে, দুই ছেলে রয়েছে।
শিক্ষা জীবন
ডা. এসএম খালিদুজ্জামান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে জেলা পর্যায়ে তৃতীয় স্থান এবং ৮ম শ্রেণিতে কৃতিত্বের সাথে বৃত্তি পান। এসএসসিতে উপজেলায় সর্বাধিক নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে এবং এইচএসসিতে রেকর্ড সংখ্যক মাক পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ইন্ডিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রী এমএসসি (ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি) অর্জন করেন।
ছাত্র রাজনীতি
খুলনা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি মেধাবীদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি নিরলস পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলে কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস পাস করেন। পরবর্তীতে ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবন শেষ করে ডা. এসএম খালিদুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মেডিকেল থানা আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ডাক্তারদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সংগঠন এনডিএফ ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।
সামাজিক ও মানবিক কাজে অবদান
ডা. এসএম খালিদুজ্জামান ২০১৩ সালে লতিফা-রশিদ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। যেমন ফ্রি চিকিৎসা, হেলথ লোন, হেলথ কার্ড, বৃত্তি প্রকল্প, কারিগরি শিক্ষা, পথশিশু শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ নানা সামাজিক কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া তিনি লাইফসাইকেলবিডি ব্লাড ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ পর্যন্ত উক্ত ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ হাজারের অধিক মানুষকে ব্লাড প্রদান করা হয়েছে।
চিকিৎসাসেবায় অবদান
চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের পর বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা কেন্দ্র এ্যাপোলো (বর্তমানে এভারকেয়ার) হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন। অত্যন্ত সাফল্যের সাথে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হোন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিকমানের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র 'বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতাল'। খুব কম সময়ে সাধ্যের মধ্যে স্বল্প খরচে সেবা দিয়ে রোগীদের কাছে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
তিনি বাংলাদেশে প্রথম পুরুষ বন্ধ্যাত্বের একটি যুগোপযোগী চিকিৎসা ব্যাথামুক্তভাবে PESA, TESA চালু করেন। এছাড়াও গরীব অসহায় রোগীদের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসা করার এক যুগান্তকারী নজির স্থাপন করেন।
ছাত্রজীবনের শুরু থেকে আজ অবধি মানবতার পাশে, সামাজিক কাজ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এই মেধাবী চিকিৎসক নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
জনগণের প্রত্যাশা আগামীর দিনগুলোতে যোগ্য নেতৃত্বের হাল ধরে ঢাকা-১৭ আসনসহ দেশের জনগণের সুখে-দুঃখে, উন্নয়নে, অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবেন এই মানবিক চিকিৎসক ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। তিনি তার যোগ্য নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতসহ সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনে নতুন মাইলফলক তৈরি করবেন ইনশাআল্লাহ।
